
প্রতিষ্ঠাতার বাণী
প্রিয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আস্সালামু আলাইকুম।
আপনাদের সকলকে আমার ও পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ব্যস্ততাপূর্ণ কর্মময় জীবনে ব্যবসায়িক কারণে আপনাদের কোমলমতি পোষ্য/সন্তানদের আমি সঠিকভাবে সময় দিতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমার অনুপস্থিতিতে আমার সহধর্মিণী জনাবা জাকিয়া আলী ভূঁইয়া, বড় কন্যা সানজিদা ভূঁইয়া হক এবং কনিষ্ঠ কন্যা রিফাত আলী ভূঁইয়া আমার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যথাযথভাবে সময় দিয়ে আসছেন। তারা যেন আরও বেশি আপনাদের সেবা করতে পারেন, তার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া করবেন।
আমি বিশ্বাস করি, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। জাতিকে শিক্ষিত ও উন্নত করতে হলে সর্বাগ্রে নারীদের শিক্ষিত করতে হবে।
আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যে দেশের নারীরা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে, সে জাতি তত বেশি উন্নত। সে মতে নারীদের শিক্ষিত, সচেতন, সংগঠিত, আয়মুখী ও আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সর্বপ্রথম আমি আমার মমতাময়ী মাতা “জনাবা সফুরা খাতুন”-এর নামে নিজ খরচে ও আপনাদের সহযোগিতায় “সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করেছি।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও শিক্ষিত ও উন্নত জাতি গঠনের মানসে শিক্ষা বিস্তারের বাতিঘর এই প্রতিষ্ঠানটির আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে যুগের চাহিদার নিরিখে গুণগত ও বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির বদৌলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন অতন্দ্র প্রহরীর মতো পর্যবেক্ষণ করছি।
আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। উন্নত জাতি গঠনে চাই উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা। সেই প্রয়াসে আপনাদের সন্তানদের সোনালি ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আমার পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৮ সালে গোদনাইল প্রিপারেটরি স্কুল, ১৯৮৪ সালে সুমিলপাড়া স্কুল (বর্তমানে সুমিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), এম. ডব্লিউ. কলেজ (বর্তমানে সরকারি মার্চেন্ট ওয়ার্কার্স (এম. ডব্লিউ.) কলেজ) এবং ২০০৪ সালে সফর আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি আমার সহধর্মিণী।
বন্ধুরা, সুশিক্ষিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের সম্পদ। স্বাধীনতার অর্ধশত বর্ষ পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হয়নি। আসুন, আমরা সবাই মিলে আগামী প্রজন্মের শিক্ষাগ্রহণের পথকে মসৃণ, সুষম ও সুগম করি, যাতে তারা দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।
পরিশেষে, সকলের সুস্থতা, সুন্দর ও মঙ্গলময় জীবন কামনা করছি। আল্লাহ হাফেজ।
ধন্যবাদান্তে—